শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
বাগেরহাটের চিতলমারীতে দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মশা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত সাতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর তুলনায় বিভিন্ন ক্লিনিক ও বাসাবাড়িতে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বেশি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, জ্বর নিয়ে শিশু, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী অসংখ্য রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের অনেকের শরীরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার (৯২) ও দুর্গাপুর গ্রামের কর্ণধর মণ্ডল (৬৫) জ্বর নিয়ে চিতলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে পরীক্ষা করা হলে তাদের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এছাড়া বিভিন্ন ক্লিনিক ও বাসাবাড়িতে থেকেও অনেকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি উপজেলার পাশের সাহসপুর গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী রিয়া মজুমদার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আতিয়ার মল্লিক বলেন, “আগে শহরে ডেঙ্গুর কথা শোনা যেত। এখন গ্রামেও রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আছেন। বর্ষার স্থায়িত্ব এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে এডিস মশার উপদ্রব বেড়েছে। অথচ উপজেলা পরিষদ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশা নিধনে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, সময়মতো মশক নিধন কার্যক্রম শুরু না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মি রায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। রোগীদের চিকিৎসায় সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরীক্ষা করে অনেকের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। এসব রোগীকে বিশেষভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী রয়েছে। ডেঙ্গু থেকে মুক্ত থাকতে হলে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কোথাও যাতে পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

