ফরিদপুর প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাটে আবাদি জমিতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নবিরন নেছা (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধা (৩৫)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। একই সঙ্গে নিহতের মরদেহ গুমের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে ফরিদপুর শহরের কোতোয়ালি থানাধীন ব্যাপারীপাড়া এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গোয়ালন্দঘাট থানার আইনুদ্দিন প্রামাণিক পাড়ার মৃত জলিল মৃধার ছেলে।
র্যাব-১০ জানায়, চরম দরিদ্রতার কারণে নবিরন নেছা বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতেন। গত ২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে তিনি জমিতে কাজ করতে যান। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা তাকে খুঁজতে বের হন। পরে রাত ৯টার দিকে পাশের একটি আখক্ষেতে পানির মধ্যে তাকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। র্যাবের দাবি, অভিযুক্ত রফিকুল তার আখক্ষেতের চারপাশে বেআইনিভাবে জিআই তার পেঁচিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রেখেছিলেন। জমিতে কাজ করার সময় ওই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নবিরন নেছার মৃত্যু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা নিহতের মরদেহ ধানক্ষেত থেকে সরিয়ে আখক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে মরদেহ গুমের জন্য গর্তও খোঁড়া হয়েছিল বলে র্যাব জানিয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১০-এর কাছে অধিযাচনপত্র পাঠান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে র্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলাম মৃধাকে গ্রেপ্তার করে। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিযাচনপত্র পাওয়ার প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার দুপুরে র্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, অপরাধ দমনে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

