অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মারধর ও শ্লীলতাহানি এবং তার শাশুড়িকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে বিলের মধ্যে ফেলে রেখে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
শনিবার উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামে ভোররাত ও সন্ধ্যার দিকে পৃথক সময়ে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় গৃহবধূ শাহিনুর বেগম (৩৫) ও তার শাশুড়ি কহিনুর বেগম (৬৮) আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শাহিনুর বেগম, তার শ্বশুর আবদুল বারেক ও শাশুড়ি কহিনুর বেগমের অভিযোগ, আবদুল বারেকের সঙ্গে একই ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনের ৭ দশমিক ০১ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। বিরোধপূর্ণ জমি বর্তমানে আবদুল বারেকের দখলে রয়েছে বলে দাবি তাদের।
তাদের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের কাছে এক একর জমি ও ৭ লাখ টাকা দাবি করে। এ সময় তাদের ঘেরের মাছ ধরে নিয়ে যায় তারা। এরপর থেকে হুমকির কারণে আবদুল বারেক বাড়িতে থাকতে পারছেন না। বাড়িতে তার স্ত্রী কহিনুর বেগম ও পুত্রবধূ শাহিনুর বেগম থাকছিলেন।
পরিবারের দাবি, শনিবার ভোররাতে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়িতে ঢুকে শাহিনুর বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এরপর ওই দিন রাত ৮টার দিকে কহিনুর বেগমকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে বিলের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। পরে তাদের বসতঘরে আগুন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আবদুল বারেকের সঙ্গে বেতকাটা গ্রামের বেল্লালেরও জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। শনিবার বেল্লাল তার বাড়ির পাশের খালে চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় বারেকের ছেলে বশির বেল্লালের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাদের বসতঘরে কীভাবে আগুন লেগেছে, তা তিনি জানেন না। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

