Nabadhara
ঢাকাসোমবার , ১২ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংকটেও সম্ভাবনার হাতছানি যশোরের চিকিৎসা খাতে

যশোর প্রতিনিধি
অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৪:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যশোর প্রতিনিধি

অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা ও ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ে সাফল্যের পাশাপাশি জনবলসংকট, ওষুধ ও স্যালাইনের ঘাটতি, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে চাপে রয়েছে যশোরের স্বাস্থ্য খাত। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর চাপের তুলনায় সেবার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, বিশেষায়িত ইউনিট চালু এবং ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ে জাতীয় স্বীকৃতি জেলার চিকিৎসা খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

চলতি বছর যশোর মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জেলার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পাশাপাশি যশোর জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মুস্তাফিজুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে শয্যাসংকটের কারণে রোগীদের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করা গেলে এ চাপ কমবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য জেলায় যাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।

তবে উন্নয়নের সম্ভাবনার বিপরীতে সেবার মান ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, নবজাতকের মৃত্যু ও শরীরে ক্ষতচিহ্ন নিয়ে বিতর্ক এবং দালালচক্রের তৎপরতা বারবার আলোচনায় এসেছে। হাসপাতালের ৫০০ মিটারের মধ্যে ২২টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল গড়ে ওঠার তথ্যও সামনে এসেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালদের মাধ্যমে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ধরনের তৎপরতা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে।

এদিকে, চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৬৫৯ ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে দুজনের। একপর্যায়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে একসঙ্গে ৫৮ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল অভয়নগরে—৬১৯ জন। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে সংক্রমণ বেশি হওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য বিভাগে প্রায় দুই বছর ধরে কীটতত্ত্ববিদের পদ শূন্য থাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও বৈজ্ঞানিক জরিপ পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানা গেছে।

জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটও রোগীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালে দৈনিক তিন থেকে চারশ ব্যাগ স্যালাইনের চাহিদা থাকলেও একপর্যায়ে সরবরাহ নেমে আসে মাত্র ৫০ ব্যাগে। স্যালাইন ও জরুরি ওষুধের ঘাটতিতে ব্যাহত হয় চিকিৎসাসেবা। গত এক বছর ধরে এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে হাসপাতালের সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা উঠে এসেছে।

উপজেলা পর্যায়েও জনবলসংকট প্রকট। শার্শা, ঝিকরগাছা, মণিরামপুর ও অভয়নগরসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের অভাব রয়েছে। চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০০ শয্যার নতুন ভবন প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও জনবলসংকটে দীর্ঘদিন চালু করা যায়নি। সম্প্রতি ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছে। সেখানে ৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবায় চাপ ছিল। অন্যদিকে, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসাসেবা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষাগারের রি-এজেন্ট সংকটে এক্স-রে ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা বন্ধ থাকার অভিযোগও রয়েছে।

এত সংকটের মধ্যেও জেলার স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতির চিত্র রয়েছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন কার্যত অকার্যকর থাকা করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, নতুন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপন এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উপস্থিতিতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে, যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার এক যুগ পার হলেও দীর্ঘদিন কলেজ-সংলগ্ন হাসপাতাল ছিল না। বিএনপি সরকার গঠনের পর যমেক চত্বরে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যশোরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়েও সাফল্য দেখিয়েছে জেলার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে। অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনিকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে সেবার পরিধিও বেড়েছে।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রসবকালীন সেবা, শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে কার্যক্রম চলছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে ওষুধের ঘাটতি ও সেবার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সুফল পৌঁছে দিতে সরবরাহব্যবস্থা ও সেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে যশোরের স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের উদ্যোগ ও অর্জনের পাশাপাশি জনবল, চিকিৎসাসামগ্রী, ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ, শয্যা বৃদ্ধি ও বিশেষায়িত ইউনিট চালুর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক-টেকনিশিয়ান নিয়োগ, নিয়মিত ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যশোরের চিকিৎসাব্যবস্থা দ্রুত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।