Nabadhara
ঢাকাবুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অন্যের ভিটায় জরাজীর্ণ ঘরে দিন কাটছে সাদ্দামের

ওমর ফারুক,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি
অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ওমর ফারুক,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি

টিনের চালে অসংখ্য ছিদ্র, বাঁশের কঞ্চির বেড়া। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে, আর শীতের রাতে বেড়া ভেদ করে ঢোকে হিমেল বাতাস। এমন জরাজীর্ণ ঘরেই স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে দিন কাটছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার চক শিমলা গ্রামের ভূমিহীন সাদ্দাম হোসেনের।

নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় অন্যের ভিটায় একটি ছাপড়া ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। দিনমজুরি করে যা আয় করেন, তা দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ঘর মেরামত কিংবা নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই তাঁর। তাই ঝড়-বৃষ্টি আর শীতের সঙ্গে লড়াই করেই কাটছে পরিবারটির দিন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয় সাদ্দামের। পরে মা অন্যত্র বিয়ে করলে বাবার স্নেহ থেকেও বঞ্চিত হয়ে পড়েন তিনি। দিনমজুর নানা অন্যের বাড়িতে কাজ করে তাঁকে বড় করেন। বড় হয়ে সংসার পাতলেও দারিদ্র্য পিছু ছাড়েনি। বর্তমানে সাদ্দাম দিনমজুরি করেন, পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীও অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসারের খরচ জোগাতে সহযোগিতা করেন।

সাদ্দামকে নিজের ভিটায় আশ্রয় দিয়েছেন স্থানীয় সাখাওয়াত সরদার। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই সাদ্দাম অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। নিজস্ব জায়গা না থাকায় মানবিক কারণে তাঁকে নিজের ভিটায় একটি ঝুপড়ি ঘর তুলে থাকতে দিয়েছেন। কিন্তু ঘরটির অবস্থা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টি হলেই চাল দিয়ে পানি পড়ে। তাঁর সাধ্য থাকলে একটি ভালো ঘরের ব্যবস্থা করে দিতেন। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে পরিবারটির জন্য খাসজমি ও একটি ঘরের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।

নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘তিন বছর বয়সে মা-বাবা আলাদা হয়ে যান। মা-ও আমাকে ছেড়ে চলে যান। বুড়ো নানা দিনমজুরি করে আমাকে বড় করেছেন। এখন আমার সংসার হয়েছে, কিন্তু সন্তানদের নিরাপদে ঘুমানোর মতো ঘর দিতে পারছি না। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে, শীতের সময় কঞ্চির বেড়া দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে। বাচ্চাদের কষ্ট দেখে খুব খারাপ লাগে। সারাদিন কাজ করে সংসারের খাবার জোগাব, নাকি ঘর তৈরি করব? সরকার বা বিত্তবান কেউ সহযোগিতা করলে সন্তানদের নিয়ে অন্তত শান্তিতে থাকতে পারতাম।’

সাদ্দামের এমন দুরবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারাও সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পরিবারটির মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের এগিয়ে আসা।

অন্যের ভিটায় জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা সাদ্দামের পরিবারের এখন একটাই চাওয়া—এক টুকরো জমি আর নিরাপদ একটি ঘর। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা পেলে পরিবারটির দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।