রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে খুলনার লাজ ফার্মাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযোগকারী মো. সাইফুল্লাহ আল রাব্বিকে আইনের আওতায় জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ, অর্থাৎ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার অভিযোগকারী সাইফুল্লাহ আল রাব্বির হাতে এ অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
অভিযোগকারী মো. সাইফুল্লাহ আল রাব্বি জানান, চলতি বছরের মে মাসে তিনি মায়ের চুলকানির ওষুধ হিসেবে একটি লোশন লাজ ফার্মা থেকে কেনেন। পণ্যের গায়ে ‘ফিলিপাইনে তৈরি’ লেখা থাকলেও পরবর্তীতে সন্দেহ হলে তা যাচাই করে দেখা যায়, এটি মূলত ঝিনাইদহের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে।
৩১ মে তিনি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তিন দফা শুনানির পর গত ১৮ আগস্ট খুলনার রয়্যাল মোড়ে লাজ ফার্মায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভেজাল ওষুধ বিক্রির সত্যতা পায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডোরাবেলা হেলথকেয়ারের প্রতিনিধি মো. তানভীর আহমেদ পলাশকে ওষুধসহ আটক করা হয়।
পরে প্রতিষ্ঠানদ্বয় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪১, ৪৪ ও ৫০ ধারায় লাজ ফার্মাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে আইন অনুযায়ী অভিযোগকারীকে ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয় এবং বাকি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম বলেন,এই অভিযান ও শাস্তি ভবিষ্যতে অনৈতিক ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে একটি বার্তা হিসেবে কাজ করবে। জনসচেতনতা এবং ভোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে।

