ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কৃতি সন্তান অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. শহিদ উল্লাহকে দেখতে গেলেন উপজেলা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বাহিনী কল্যাণ সংস্থার সদস্যরা। তিনি বর্তমানে বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকালে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নোয়াগাঁও গ্রামের নিজ বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। এ সময় তারা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট শহিদ উল্লাহ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দি থেকে পাক সেনাদের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। এর আগে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও ভারত বিভক্তির সময় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৫২ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন। পাকিস্তানের কারাগারে দীর্ঘ কারাভোগ শেষে জাতিসংঘের বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় ১৯৭৪ সালে দেশে ফেরেন তিনি।
বর্তমানে ১০৪ বছর বয়সী এই প্রবীণ যোদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেও তিনি আজ পর্যন্ত সরকারের কোনো সম্মাননা পাননি। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের জন্য যেসব সেনা সদস্য জীবন বাজি রেখে নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের যথাযথ সম্মাননা দেওয়া হোক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়arrant অফিসার কাজী আবদুর রশিদ, মো. জালাল উদ্দিন আহমেদ, ওয়arrant অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান, সার্জেন্ট মো. সাজ্জাদুল হক, মো. আবদুল আজিজ, জিতু মিয়া, কর্পোরাল শওকত আলী শাহ, সৈয়দ মোস্তফা নোমান, ল্যাপঃ কর্পোরাল নুর মোহাম্মদ হুমায়ন ও সৈনিক সাত্তার মিয়া।
তাছাড়া সরাইল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়া, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. মুখলেছুর রহমান মোল্লা ও কার্যকরী সদস্য রিমন খান উপস্থিত ছিলেন।

