রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ এলেও খুলনার বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। গেল দুই সপ্তাহ ধরে শহরের খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে একই দামে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ভোক্তারা এখনও কিনতে বাধ্য হচ্ছেন চড়া দামে।
নগরীর খালিশপুর চিত্রালী, গল্লামারী, ময়লাপোতা, জোড়াকল ও রূপসা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। এদিকে সোনাডাঙ্গা পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ৫৮ থেকে ৬২ টাকা কেজি হলেও এর সরবরাহ খুবই সীমিত। বাজারজুড়ে ১৫-২০টি আড়তের মধ্যে মাত্র একটি আড়তে দেখা গেছে ভারতীয় পেঁয়াজের উপস্থিতি।
বিক্রেতারা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম দেশি পেঁয়াজের তুলনায় খুব বেশি কম নয়। আবার পচনশীলতাও বেশি। ফলে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
সোনাডাঙ্গা বাজারের আড়তদার কামরুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা হোটেল-রেস্তোরাঁয় সীমিত। দাম যদি দেশি পেঁয়াজের চেয়ে ১৫-২০ টাকা কম হয়, তখন সাধারণ ক্রেতারা সেটি কেনেন।
গল্লামারী বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. বাদশাহ জানান, গত এক মাস ধরে পেঁয়াজের দাম ৬৫-৬৬ টাকার আশপাশেই রয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজ এলেও বাজারে তেমন প্রভাব নেই।
রূপসা বাজারের ক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন,ভারতীয় পেঁয়াজ আসার খবর শুনেছিলাম। ভেবেছিলাম দাম কমবে। কিন্তু বাজারে এসে দেখলাম, আগের মতোই চড়া দাম, ভারতীয় পেঁয়াজও চোখে পড়েনি।
দাম বাড়তির কারণে কেনাকাটায়ও প্রভাব পড়েছে। রেবেকা সুলতানা নামের এক ক্রেতা বলেন,দাম বেশি হওয়ায় এক কেজির বেশি নিতে পারিনি। দর্জির কাজ করে কতই বা আয় হয়! কম হলে অন্তত দুই কেজি নিতে পারতাম।
ময়লাপোতা বাজারের বিক্রেতা শুভ বলেন, এক মাস ধরে দাম বেশি। আমরা লাভ করি কম, কিন্তু বিক্রি বেশি হলে মুনাফা হয়। এখন বিক্রি কমে গেছে।
চিত্রালী বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম খুব একটা কম না, তাই চাহিদাও নেই। যদি বড় ব্যবধান থাকত, তাহলে বাজারে সাড়া পাওয়া যেত।
জোড়াকল বাজারের ভাই ভাই স্টোরের বিক্রেতা আলিমুল শেখ বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ দ্রুত পঁচে যায়। তাই অনেকেই নিতে চায় না। কয়েক দিন আগে কিছু কিনে ৭০ টাকা দরে বিক্রি করেছি, কিন্তু ক্রেতারা দেশি পেঁয়াজই চায়। আমাদের দেশের আদা, পেঁয়াজ, রসুন সবই উৎকৃষ্ট। এটা আমাদের গর্ব।
সার্বিকভাবে, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হলেও খুলনার বাজারে এখন পর্যন্ত এর বড় কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। দাম নির্ভর করছে চাহিদার উপর, আর চাহিদা তৈরি হচ্ছে মূল্যবান সামগ্রীর নাগালের মধ্যে থাকলে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দরকার কার্যকর মনিটরিং ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা।

