তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
কপোতাক্ষ খনন প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার তালায় পাখিমারা বিলের টিআরএম প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের বকেয়া হারির টাকা প্রদানের দাবিতে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল ১১টায় আঃ সালাম গণ-গ্রন্থাগার হলরুমে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাখিমারা বিল কমিটির সদস্য গোলদার আশরাফুল ইসলাম। তিনি জানান, নদী, খাল, বিল রক্ষা আন্দোলন কমিটি ও স্থানীয় জনগণের দীর্ঘ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকারীভাবে তালার পাখিমারা বিলের চারিধারে পেরিফেরিয়াল বাঁধ দিয়ে ২০১১-১২ অর্থ বছরে ১,৫৬২ একর জমি হারি নিয়ে টিআরএম প্রকল্প চালু করা হয়। এই প্রকল্প ২০২১ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল।
প্রকল্প চালুর মাত্র দুই বছরের মধ্যে ৮০ শতাংশ জমির মালিক হারির টাকা পেয়লেও পরবর্তী চার বছরে কোনো টাকা প্রদানের ব্যবস্থা হয়নি। আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এই অঞ্চল মূলত অনুন্নত কৃষি নির্ভর। প্রতি বর্ষা মৌসুমে এলাকা প্লাবিত হয়। কৃষকরা পাখিমারা বিলে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘ ছয় বছর বকেয়া টাকা না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শিক্ষার্থী সন্তানদের পড়াশোনায়ও প্রভাব পড়েছে।”
তিনি আরও জানান, পাখিমারা বিলে টিআরএম প্রকল্প চালুর ফলে কপোতাক্ষ অববাহিকার প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হয়েছে। জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণেও ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্প বন্ধ থাকায় কপোতাক্ষ নদীর নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে। নদীর সংযোগ খাল পলি পড়ে বন্ধ হওয়ায় জোয়ারের পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে বালিয়া, তেঘরিয়া, সাতপাখিয়া, ডুমুরিয়া ও শুভাঙ্করকাটি গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন পাখিমারা বিল কমিটির সভাপতি আব্দুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ সানা, সদস্য ছফেদ আলী সরদার, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হাকিম, উত্তরণ কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সানা, উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান এবং নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম।
কমিটি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে টিআরএম প্রকল্প চালু করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের বকেয়া হারির টাকা প্রদান করা হোক।

