Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনায় নদীতে ভাসছে ম/রদেহ,আ/তঙ্কে খুলনাবাসী

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি

প্রতিদিনই মৃত্যুর অজানা বার্তা নিয়ে খুলনার নদ-নদী বয়ে আনছে একের পর এক অজ্ঞাত মরদেহ। গত এক বছরে এই নগরীর বিভিন্ন নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অর্ধশতাধিক নিথর দেহ। জলরাশির বুকে ভেসে ওঠা এই মরদেহগুলো ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য আর শঙ্কার মেঘ। জনমনে দানা বাঁধছে প্রশ্ন—এসব লাশ কার? কেনই বা তারা পড়ে থাকছে নদীর জলে?

নৌ-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ৫০টি মরদেহ। এর মধ্যে ৩০টির পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও ২০টির পরিচয় এখনো অজানা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অধিকাংশ মরদেহের অবস্থা ছিল এমন যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পচন ও টিস্যু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মুখ ও আঙুল শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত এসব মরদেহ ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন করেছে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।

মাসওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টে ৫টি, সেপ্টেম্বরে ৪টি, অক্টোবরে ১টি, নভেম্বরে ৩টি ও ডিসেম্বরে ২টি মরদেহ উদ্ধার হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সাতটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে পরিস্থিতি বদলে যায়। এপ্রিলে উদ্ধার হওয়া ৩টি মরদেহের ১টি, মে মাসে ৬টির মধ্যে ২টি, জুনে ৬টির মধ্যে ৪টি, জুলাইয়ে ৩টির মধ্যে ২টি এবং আগস্টে ৮টির মধ্যে ৫টির পরিচয় অজানা থেকে যায়। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতেই কাজীবাছা নদী ও রূপসা নদী থেকে আরও দুটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে খুলনার রূপসা, ভৈরব ও পশুর নদী থেকে। নৌ-পুলিশের হিসাব মতে, রূপসা নদী থেকে ৪০ শতাংশ, ভৈরব নদী থেকে ৩০ শতাংশ, পশুর নদী থেকে ২০ শতাংশ এবং অন্যান্য নদী থেকে ১০ শতাংশ মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ৩২ জন পুরুষ, ৭ জন নারী এবং ১১ জন শিশু।

২৩ সেপ্টেম্বর খুলনা শিপইয়ার্ডের ১ নম্বর জেটির পাশে নদীর তীরে এক ব্যক্তির মরদেহ ভেসে ওঠে। লবণচরা থানার ওসি হাওলাদার সানোয়ার মাসুম জানান, মরদেহটি নৌ-পুলিশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

পুলিশ জানায়, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য। তবে ফলাফল পেতে সময় লাগছে অনেক। সিআইডি ও পিবিআই টিম ডিএনএ পরীক্ষায় সহায়তা করছে।

খুলনার বিশিষ্ট নাগরিক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা মনে করেন, দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। প্রশাসনের মধ্যে অকার্যকারিতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি মানবিক সংস্কার জরুরি।

নৌ-পুলিশ খুলনা অঞ্চলের পুলিশ সুপার ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, নদীতে মরদেহ ফেলা এখন অনেক অপরাধীর কাছে নিরাপদ পন্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেক সময় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুও ঘটছে, তবে হত্যার পর মরদেহ গুমের কৌশল হিসেবে নদী ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। তার মতে, স্থলভাগের তুলনায় নদীতে লাশ ফেললে শনাক্ত করা কঠিন হয়। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে দেহ বিকৃত হয়ে যায়, ফিঙ্গারপ্রিন্ট অকার্যকর হয়ে পড়ে, ফলে পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীতে মরদেহ ফেলার প্রবণতা রোধে নৌপথে নজরদারি বাড়ানো, টহল জোরদার করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীদের মনে আইনের ভয় সৃষ্টি হবে, যা এ ধরনের অপরাধ হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।

খুলনা নৌ-পুলিশের আওতাধীন এলাকায় রয়েছে খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও সাতক্ষীরা জেলার নদ-নদী। এ অঞ্চলের ভৈরব, রূপসা, কাজীবাছা, আঠারবেঁকী, শিবসা, পশুর, শ্যালা, সন্ধ্যা, কচা, বলেশ্বর ও নওবেঁকী নদী থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

এই অজানা অচেনা মরদেহ জনমনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এই রহস্য উদঘাটন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।