জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একটি নাবালিকার বিয়ের আয়োজন বন্ধ করা হয়েছে। পরে মেয়ের বাবার কাছ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার (মুচলেকা) নেওয়া হয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে জয়পুরহাট চিনিকল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যার ছেলের সঙ্গে চিনিকলের আরেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মেয়ের গোপনে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেয়।
পরে জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান এবং সদর থানার ওসি নুরে আলম সিদ্দিকী উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মেয়ের বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় যে, মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই বিয়ে দেওয়া হবে না।
তবে বর ও কনের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি বিয়ে নয় বরং শুধু আংটি পরানো বা আক্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল।
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা বলেন, তাঁর ছেলে এমবিবিএস পাস করেছেন এবং পারিবারিক সম্মতিতে আংটি পরানোর আয়োজন করা হয়েছিল। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান করা হয় এবং মেয়ের বাবা লিখিত অঙ্গীকার দেন।
ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, নাবালিকার বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। মেয়েটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। তাই তার বাবার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে যাতে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়া হয়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

