বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কৌশিক নন্দী নামে (সাড়ে ৪ বছর) এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় শিশুটি। নিহত শিশু উপজেলার ধানসাগর গ্রামের বাসিন্দা ও রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমীর কুমার নন্দীর একমাত্র সন্তান।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় বাগেরহাটে সরকারী, বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নমুনা পরিক্ষায় নতুন করে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ২জন ও শরণখোলা হাসপাতালে ২জন ভর্তি হয়েছেন। অন্যরা বাড়ীতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ নিয়ে দু’সপ্তাহে বাগেরহাটে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে ৩৩ জন। শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শিশু কৌশিক নন্দী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার সকালে নমুনা পরিক্ষায় শিশুটির ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়। শরণখোলা হাসপাতালের গত ৯ দিনে ৫ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বাগেরহাট জেলা বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ওনার্স এ্যাসোসিয়েশেনের সাধারন সম্পাদক এস এম নুরুল ইসলাম লিটন জানান, বাগেরহাটে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় শুধুমাত্র বাগেরহাট শহরের বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নমুনা পরিক্ষায় ১২ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছে। বাগেরহাট ২৫০ বেড জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসিম কুমার সমাদ্দার জানান, বাগেরহাটে এখন প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। দু’সপ্তাহে এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে ১৬ জন। বর্তমানে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ২জন ভর্তি রয়েছেন। জ্বর ও সর্দিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই জেলা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা।
রোগীর চাপ বেশী থাকায় শয্যা সংকটের কারনে অনেকেই ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জনবল সংকট থাকায় ডেঙ্গুসহ রোগীদের স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও স্বাস্থসেবা নিশ্চিতে চেষ্টার কথা জানালেন এই কর্মকর্তা।

