Nabadhara
ঢাকাবুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শুঁটকি উৎপাদনে ব্যস্ত জেলেরা, লাভের সঙ্গে বাড়ছে মৎস্য সম্পদ ও শিশু শ্রমের ঝুঁকি

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ ৪:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

নোয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলছে মাছ শুকিয়ে শুঁটকি উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ। মৌসুমি এ ব্যস্ততায় একদিকে যেমন জেলে পরিবারগুলোর আয় বেড়েছে, তেমনি অন্যদিকে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও শিশু শ্রম ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

হাতিয়ার রহমত বাজার, কাজিরবাজার, জঙ্গলিয়া, জাহাজমারা কাটাখালী ও নিঝুমদ্বীপ এলাকায় রেণু মাছ, ছোট চিংড়ি ও ছেউয়া মাছ প্রক্রিয়াজাত করে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে পরিবারগুলো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রহমত বাজার গোলপাতা পর্যটন কেন্দ্রের পাশের খোলা মাঠে সারি সারি মাছ রোদে শুকাতে বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কেউ মাছ বিছাচ্ছেন, কেউ উল্টে-পাল্টে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকিয়ে যাওয়া শুঁটকি গুছিয়ে রাখছেন। এসব কাজে শিশু ও কিশোর বয়সী শ্রমিকদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

জেলে পরিবারগুলোর দাবি, শুঁটকি উৎপাদনের মাধ্যমে তাদের মৌসুমজুড়ে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদকদের প্রত্যেকের অধীনে গড়ে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক কাজ করছে। কেউ দৈনিক মজুরিতে, আবার কেউ মাসিক বেতনে কাজ করছে।

১২ বছর বয়সী সোহেল জানায়, সে নবীর মাঝির অধীনে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করে। ১০ বছরের আলিফও একই হারে বেতন পায়। আর ৬–৭ বছর বয়সী রিপন ও সাইফুল জানায়, তারা দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছে।

উৎপাদকদের তথ্যমতে, ছোট চিংড়ির শুঁটকি মাছ চাষ ও পশু খাদ্যের জন্য মণপ্রতি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাতিয়ার খাসের হাট, ওছখালী ও তমরুদ্দি বাজার ছাড়াও জেলার বাইরের বড় মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে এসব শুঁটকি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ মৌসুমে উৎপাদন ভালো হওয়ায় আয়ও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।

এদিকে, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে ছেউয়া মাছ ধরা পড়ছে। বড় আকৃতির তাজা ছেউয়া মাছ পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও অপেক্ষাকৃত ছোট মাছগুলো শুঁটকি তৈরির জন্য খোলা মাঠে শুকানো হচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবে শুকানো এসব শুঁটকির স্বাদ আলাদা হওয়ায় পর্যটকরাও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, এই লাভের আড়ালে ক্ষতির দিকটিও উপেক্ষিত। নির্বিচারে রেণু ও ক্ষুদ্র চিংড়ি মাছ শুকানোর ফলে ভবিষ্যতে মৎস্য সম্পদের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি শিশু ও কিশোর শ্রমের ব্যবহার সামাজিক ও আইনি দিক থেকেও উদ্বেগজনক।

শুঁটকি ব্যবসায়ী নবীর জানান, প্রতি মৌসুমে হাতিয়া থেকে লাখ লাখ টাকার শুঁটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি এলেও উৎপাদন প্রক্রিয়াটি এখনো পুরোপুরি অপ্রাতিষ্ঠানিক রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ফয়জুর রহমান বলেন, “যেসব এলাকায় শুঁটকি উৎপাদন হচ্ছে, সেখানে উৎপাদকদের আগ্রহ থাকলে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এতে কেমিক্যালমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং শিশু শ্রম নিরুৎসাহিত করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে শুঁটকি শিল্প হাতিয়ার জন্য টেকসই আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হতে পারে। অন্যথায় তাৎক্ষণিক লাভের বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির বোঝা বইতে হতে পারে দ্বীপবাসীকেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।