মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় দাখিল গণিত পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৮ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজগঞ্জ সিদ্দিকীয়া মডেল ফাযিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রের ১২ নম্বর কক্ষে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। অথচ তারা নতুন সিলেবাসের পরীক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা দায়িত্বরত শিক্ষকদের জানান। তবে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কোনো সমাধান না দিয়ে উল্টো ধমক দিয়ে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়।
পরীক্ষার্থী সোহানা, রাবেয়া ও খাদিজা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ভুল প্রশ্ন পাওয়ার বিষয়টি জানালে শিক্ষকরা গুরুত্ব না দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলেন।”
পরীক্ষা শেষে ঘটনাটি অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানে জানানো হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা নিজ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেন, তবে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান মেলেনি।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “প্রথমে চারজনের প্রশ্নপত্রে কিছু সমস্যা হয়েছিল, পরে তা ঠিক করা হয়েছে। বড় কোনো সমস্যা হয়নি। বিষয়টি ইউএনওকেও জানানো হয়েছে।” তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক কারা ছিলেন সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে হল সুপার আব্দুল আলীম বলেন, তিনি নিয়মিত কক্ষ পরিদর্শন করেছেন, তবে কোনো শিক্ষার্থী অভিযোগ করেনি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে ট্যাগ অফিসারের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাব।”
ট্যাগ অফিসার হাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জানানো হয়নি, তবে তিনি কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মাসুদ হোসাইন বলেন, “ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। কেন্দ্র সচিব বলেছেন সব ঠিক আছে, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

