কোটালীপাড়া(গোপালগঞ্জ)প্রতিনিধি
জমিজমা ও বসতবাড়ি বিক্রি করে ভারতে যাওয়ার পথে ঝিনাইদাহের মহেশপুর সীমান্তে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মরদেহ হলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রথিকান্ত জয়ধর (৪৬)।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে মহেশপুর থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঝিনাইদাহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত রথিকান্ত জয়ধর কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পলোটানা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে রথিকান্তের স্ত্রী উজ্জলী জয়ধর চার সন্তান—রতন (২২), রত্না (১৮), নয়ন (১৫) ও রিয়া (১২)—কে নিয়ে কলকাতায় চলে যান। এরপর কয়েকবার তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাড়ির জমিজমা ও বসতভিটা বিক্রি করে কলকাতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দেন তিনি। তবে কার মাধ্যমে বা কোন পথে তিনি সীমান্তে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানাননি।
নিহতের ছোট ভাই রণজিৎ জয়ধর জানান, “আমার ভাই কলকাতায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু সে কীভাবে যাবে বা কার সাথে যাবে, তা আমাদের বলেনি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পাই। রাতেই মহেশপুরে গিয়ে মরদেহ সনাক্ত করি।”
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইছামতি নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তার সাথে থাকা একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট থেকে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মরদেহের বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খান চমন-ই-এলাহী বলেন, “দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, এমনকি প্রাণও হারাচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি রথিকান্ত জয়ধরের হত্যার রহস্য দ্রুত উদঘাটন করা প্রয়োজন।”
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

