নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের শ্রীপুরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে শত শত হেক্টর জমির পাকা বোরোধান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বহু বসতবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। হঠাৎ এ দুর্যোগে কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা, বেইলদিয়া ও নান্দিয়া সাঙ্গুনসহ আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমির পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেতেই ধানের শীষ নষ্ট হয়ে গেছে। প্রবল ঝড়ে ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং গাছপালা ভেঙে পড়ে বসতবাড়ির ওপর। শাকসবজির ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকশত কৃষক এ দুর্যোগে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক পরিবার বসতঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির ফসল টর্নেডো ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এদিকে গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও গাজীপুরের মানুষ ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে বিশেষ করে কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষ বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের অনুরোধ করছি।”
হঠাৎ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারগুলো দ্রুত সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

