নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসফেরত বৃদ্ধার বসতবাড়ি ও দোকানঘর জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে জেলা শহর মাইজদীতে একটি দৈনিক পত্রিকার জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. দুলাল মিয়া এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এসময় তার মেয়ে হাসিনা আক্তার পলি, ছেলে মোবারক হোসেন রনি ও নাতি আবদুল্লাহ আল নোমান মাহিসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দুলাল মিয়া জানান, ১৯৯০-৯১ সালে তিনি নোয়ান্নই ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের নুরুল হকের কাছ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে সেখানে বসতবাড়ি ও দোকানঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে ৪-৫ বছর আগে জমির দাগ সংক্রান্ত ভুল দেখিয়ে বিক্রেতার ছেলেরা বিরোধ সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে নুরুল হকের ছেলেরা স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ও থানা পর্যায়ে একাধিক সালিশ বৈঠকও হয়েছে।
দুলাল মিয়ার দাবি, গত ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় নুরুল হকের ছেলে মো. রুবেল, মো. মাসুদ, মো. রাশেদ ও মো. দিদারসহ একটি সংঘবদ্ধ দল তার বাড়ি ও দোকানঘরে হামলা চালায়। এসময় ভাড়াটিয়াদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে মালামাল লুটপাট করে এবং ঘরগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দখলের চেষ্টা করে। পরে তিনি সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর ছেলে মোবারক হোসেন রনি বলেন, অভিযুক্তরা তাদের নিজস্ব সম্পত্তিতে যেতে বাধা দিচ্ছে। সেখানে গেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয় এবং স্বপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। থানায় অভিযোগ করেও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

