আহমেদ সিফাত, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌর এলাকার খরকমারা গ্রামে একটি কুড়ার মিল থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মিলটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার রেললাইনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত জিল্লু মিয়ার মালিকানাধীন একটি কুড়ার মিলে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল মজুত করা হয়েছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পায়। পরে “Our Kuliarchar TV” নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ প্রচারের মাধ্যমে ঘটনাটি সামনে আসে, যা দ্রুতই এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
খবর পেয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মিলটি পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মিলের ভেতরে শতাধিক বস্তা সরকারি চাল পাওয়া গেলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন।
পরে কুলিয়ারচর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দীন প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী মিলটিতে তালা দেন এবং উদ্ধার করা চালের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি খাদ্য সহায়তার এসব চাল কীভাবে একটি বেসরকারি কুড়ার মিলে পৌঁছাল এবং এর পেছনে কোনো চক্র জড়িত আছে কি না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর স্থানীয় সাংসদ ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম প্রশাসনকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান।
প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত চালের উৎস, সংরক্ষণ প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

