নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের মহাসড়কে। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় গাজীপুরে তীব্র যানজটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
রবিবার বিকাল থেকে মহাসড়ক দুটিতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করে। মহাসড়কের পাশে ভাসমান বাজার, ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল, অবৈধ স্থাপনা, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী ওঠা-নামার কারণে যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ প্রায় ৩২টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় এ চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, ফলে গাজীপুর অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জিরানী বাসস্ট্যান্ড এবং চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঈদ মৌসুমে কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। একইভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে সালনা পর্যন্ত অংশে সবচেয়ে বেশি যানজটের ঝুঁকি থাকে।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জানান, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কিছু অংশ মেরামত ও উঁচু-নিচু স্থান সংস্কারের কাজ চলছে। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবে। উত্তরাঞ্চলের ৩২টি জেলার যানবাহনের বড় অংশ গাজীপুর হয়ে চলাচল করায় এখানে চাপ বেশি।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, মাওনা চৌরাস্তা ও চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তবে যানজট নিরসনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাত্রীদের স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
এদিকে ঈদের সময় বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিতে ভোগড়া ও আশপাশের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে যানবাহন বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা যানজট আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটি দিলে যানজট নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। সে অনুযায়ী ২৫ মে ৪৫ শতাংশ, ২৬ মে ৪৭ শতাংশ এবং ২৭ মে বাকি শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৬০টি বিআরটিসি বাস যুক্ত করা হয়েছে এবং ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রশাসনের আশ্বাসের পরও ঈদ সামনে রেখে গাজীপুরে যানজট ও ভোগান্তির শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

