ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজীতে নবম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রকে অপহরণ করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রের পিতা সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রামের জাফর উল্যাহর ছেলে জহিরুল আলম মারুফ স্থানীয় লক্ষ্মীপুর রহমানিয়া মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র। প্রায় দেড় মাস আগে ‘টিআর-২৬’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ভিডিওতে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ‘লাইক’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয় গ্যাং সদস্যরা।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ এপ্রিল মারুফ ফুটবল খেলা দেখতে বখতারমুন্সি মোয়াজ্জেম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গেলে টিআর-২৬ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য অনয় পাটোয়ারী, জিসান, স্বপ্নীল, তুরান, রাহুল ও হাবিব খোন্দকার শিহাবের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকিয়া রোডের একটি নির্জন ধানক্ষেত এলাকায় নিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করা হয়।
নির্যাতনের সময় কিশোর গ্যাং সদস্যরা মারুফকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। পরে ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ জুন কিশোর গ্যাং সদস্যরা নিজেদের ‘টিআর-২৬’ গ্রুপে নির্যাতনের ভিডিওটি প্রকাশ করে। পরে সেটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়ে যায়।
এ ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রের পিতা জাফর উল্যাহ রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

