মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার গণিত কুইজে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার দুই কৃতী শিক্ষার্থী। তারা হলো জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্র কান্তি হালদার এবং মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া ইয়াসমিন।
মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দুই শিক্ষার্থীর গলায় পদক পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াত হোসেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত দেশব্যাপী শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার গণিত কুইজে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেন অরিত্র ও সুরাইয়া। জাতীয় পর্যায়ে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে তারা যথাক্রমে বালক ও বালিকা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশের সেরা হওয়ার কৃতিত্ব দেখায়।
অরিত্র কান্তি হালদার জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা পলাশ কান্তি হালদার কেশবপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং মা বিথিকা সরকার ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
অন্যদিকে, সুরাইয়া ইয়াসমিন মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা আবু সাঈদ দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং মা রুবিনা খাতুন তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
দুই শিক্ষার্থীর এ সাফল্যে মনিরামপুরজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “অরিত্র ও সুরাইয়ার এই অর্জন প্রমাণ করেছে, মেধা ও সুযোগের সঠিক সমন্বয় ঘটলে গ্রামের শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে। তাদের সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মুত্তালিব আলম বলেন, “একসঙ্গে বালক ও বালিকা বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন মনিরামপুরের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।”
মনিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি.এম. মাকসুদুর রহমান বলেন, “সুরাইয়ার সাফল্যে আমরা গর্বিত। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা ও গণিতভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি এটি।”
দেশসেরা অরিত্র কান্তি হালদার বলেন, “গণিত আমার খুব প্রিয় বিষয়। নিয়মিত অনুশীলন এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণেই এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি।”
সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। শিক্ষক, বাবা-মা এবং বিদ্যালয়ের অবদানই আমার এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখি।”
দুই শিক্ষার্থীর এই অনন্য অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস. এম. মজনুর রহমান, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মুহিবুল্লাহ মনু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান রয়েলসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
মনিরামপুর গণিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুস সবুর বলেন, “মনিরামপুরের এই দুই ক্ষুদে গণিতবীরের সাফল্য শুধু যশোর নয়, সমগ্র দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

