সোহেল রানা বাবু, বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতাধীন বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রে বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা (২০২৫-২০২৬) ও গবেষণা প্রকল্প প্রস্তাবনা (২০২৬-২০২৭) প্রণয়ন শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল থেকে দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আখেরী নাঈমা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. শেখ মুস্তাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. গোলাম সারোয়ার এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের প্রধান ড. মো. লোকমান আলী।
কর্মশালায় মৎস্য ও চিংড়ি চাষ বিষয়ক ৯টি কারিগরি সেশনে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল মাছ ও চিংড়িতে সম্ভাব্য বিষাক্ত উপাদান এবং সিন্থেটিক পলিমারের বায়োরিমিডিয়েশন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব পদ্ধতির ব্যবহার, চিংড়ির গুণগত মান সংরক্ষণে কাইটোসান-ভিত্তিক ভোজ্য আবরণের কার্যকারিতা, টেকসই চিংড়ি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় প্রোবায়োটিক-উদ্ভূত জিঙ্ক অক্সাইড ন্যানোপার্টিকেলের উন্নয়ন, শেলফিশে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ও মানবস্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন, উপকূলীয় চিংড়ি চাষে উদীয়মান রোগের ঝুঁকি ও প্রতিরোধ কৌশল, বাগদা চিংড়ি নার্সারিতে লার্ভা-পরবর্তী মৃত্যুহার ও ব্যবস্থাপনা, ফারমেন্টেড উদ্ভিদ প্রোটিনভিত্তিক খাদ্য উন্নয়ন এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের প্রাদুর্ভাব ও প্রশমন কৌশল।
এছাড়া চিংড়ি হ্যাচারির জন্য দেশীয় অণুশৈবালভিত্তিক জীবন্ত খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন গবেষণা বিষয় স্থানীয় চাষিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী চাষিদের মতামত গ্রহণের পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।
আয়োজকরা জানান, গবেষণালব্ধ তথ্য মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের চিংড়ি ও মৎস্যখাতকে আরও টেকসই, উৎপাদনশীল ও রপ্তানিমুখী করে তোলাই এ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।

