রাসেল আহমেদ, খুলনা
খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ও পানতিতা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ নিরসনে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন সড়ক। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলালের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারাসাত শিকদার বাড়ি থেকে বিল অভিমুখে পানতিতা গ্রামের গাউস মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘদিন কোনো চলাচলযোগ্য রাস্তা ছিল না। ফলে কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে বছরের পর বছর চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানির কারণে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপি নেতা মো. বিল্লাল হোসেন এলাকার বাসিন্দা ও জমির মালিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে রাস্তা নির্মাণের পরিবেশ তৈরি করেন। তার উদ্যোগে স্থানীয় জমির মালিকরা জনস্বার্থে স্বেচ্ছায় জমি প্রদান করলে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলালের নজরে আনা হলে তিনি প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করতে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন। স্থানীয়দের মতে, তাঁর সহযোগিতার ফলেই বহু বছরের প্রত্যাশিত এই রাস্তা নির্মাণ এখন দৃশ্যমান বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ শিকদার বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। সরকারি বরাদ্দের আওতায় কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। কাজ শেষ হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
সড়কটির কাজ সম্পন্ন হলে বারাসাত ও পানতিতা এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে এ সড়ক তাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। তারা সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সড়কের জন্য জমি প্রদানকারী ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি রাস্তা নয়; বরং বারাসাত ও পানতিতা এলাকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের নতুন ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। জনস্বার্থে জমি দান, স্থানীয় নেতৃত্বের উদ্যোগ এবং সরকারি সহযোগিতার সমন্বয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প তেরখাদায় উন্নয়ন ও সামাজিক ঐক্যের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

