নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) বিশ্বখ্যাত টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) প্রকাশিত ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি বৈশ্বিক পর্যায়ে ৪০১-৬০০তম অবস্থান লাভ করেছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
বুধবার টিএইচই তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এবারের র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১১৬টি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৬৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং সামগ্রিক কর্মসম্পাদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করে এ র্যাঙ্কিং প্রস্তুত করা হয়।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এসডিজি-১ (দারিদ্র্যমুক্তি) সূচকে গাকৃবি ৭৪ দশমিক ৮ স্কোর অর্জন করে বিশ্বের ৮২তম অবস্থানে রয়েছে। এসডিজি-২ (ক্ষুধামুক্তি) সূচকে ৭৮ দশমিক ৩ স্কোর পেয়ে বৈশ্বিকভাবে ৬৬তম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া এসডিজি-৪ (মানসম্মত শিক্ষা) সূচকে ৬৮ দশমিক ৫ থেকে ৭৪ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১০১-২০০তম অবস্থানে রয়েছে।
গত বছর এ র্যাঙ্কিংয়ে গাকৃবির অবস্থান ছিল ৮০১-১০০০তম। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ৪০১-৬০০তম অবস্থানে উন্নীত হওয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণা সক্ষমতা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুধু টিএইচই নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়েও গাকৃবি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। টিএইচই র্যাঙ্কিং ২০২৫ ও ২০২৬-এর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ফর ইনোভেশন (উরি) ২০২৬-এর ফিন্যান্সিয়াল ইমপ্যাক্ট ড্রিভেন ট্রান্সফার টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩তম স্থান অর্জন করেছে। অন্যদিকে কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি সাসটেইনেবিলিটি র্যাঙ্কিংস ২০২৬-এ দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করেছে।
এ অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এই সাফল্য শুধু একটি র্যাঙ্কিংয়ের অর্জন নয়, এটি আমাদের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অ্যালামনাই এবং সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই অর্জন আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা, গবেষণা এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

