ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজীতে জুলাই আন্দোলনে নিহত আবদুল গণি বোরহানের মরদেহ উত্তোলনের উদ্যোগ পরিবারের আপত্তির মুখে স্থগিত হয়েছে। আদালতের আদেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের জন্য পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কবরস্থানে গেলেও পরিবারের লিখিত আপত্তির কারণে কোনো পদক্ষেপ না নিয়েই ফিরে আসেন তারা।
বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা থানার এসআই মো. হানিফের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল এবং ফেনী জেলা প্রশাসকের মনোনীত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সোনাগাজী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইউসুফ মিয়া বোরহানের কবরস্থানে যান।
এ সময় নিহতের বড় ভাই আমানত উল্যাহ মরদেহ উত্তোলনের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় দুই বছর আগে বোরহানকে দাফন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার দেহাবশেষ উত্তোলন করলে ধর্মীয়, সামাজিক এবং পরিবারের সদস্যদের মানসিক অনুভূতিতে আঘাত লাগবে। একই দাবিতে তিনি ফেনী জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত আবেদন করেছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ মিয়া বলেন, “আদালতের আদেশের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের মনোনীত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আমি কবর থেকে বোরহানের মরদেহ উত্তোলনের জন্য ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা আপত্তি জানালে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করে মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে আসি।”
নিহতের বড় ভাই আমানত উল্যাহ জানান, বোরহান ঢাকায় সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বাংলা মোটর শাখায় আইটি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট অফিস শেষে বাংলামোটর জামে মসজিদের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন বোরহান। বিকেল ৪টার দিকে সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ৫ আগস্ট রাতে সোনাগাজীর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা না করা হলেও রমনা থানা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর প্রায় ১১ মাস আগে বোরহান চরচান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বড়ধলী গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা আক্তারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ছাড়াইতকান্দি গ্রামের মৃত মাস্টার আহসান উল্যাহর ছেলে। বোরহান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

