পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ২১টি শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার, বিলিকারী ও ডাক বহনকারীরা কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় দ্রুত দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। অন্যথায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৬ জুলাই থেকে দেশব্যাপী পূর্ণ কর্মবিরতি (ধর্মঘট) পালনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে পলাশবাড়ী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রবিউল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন জাহিদ ইসলাম।
এসময় বক্তব্য দেন লালদিঘি মেলা শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার শাহিন মিয়া, আমলাগাছী শাখা পোস্টমাস্টার শাহিন সরকার, মহিপুর বাজারের ডাক বহনকারী শারমিন আক্তার, রথের বাজার শাখা পোস্টমাস্টার, গীদারী শাখা পোস্টমাস্টার আবু জাহিদ, গোবিন্দগঞ্জের উত্তর ছয়ঘরিয়া শাখা পোস্টমাস্টার জিন্নাত, মহিপুর বাজার শাখা পোস্টমাস্টার কোহিনুর আক্তারসহ উপজেলার বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাব পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা বৈষম্য ও সমস্যার মধ্যেও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের ন্যায্য দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ডাক অধিদপ্তরের সামনে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গত ১৭ ও ১৮ জুন আন্দোলনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দাবি বাস্তবায়নের জন্য সময় দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তারা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৬ জুলাই ২০২৬ (সোমবার) থেকে দেশের সব শাখা ডাকঘরে পূর্ণ কর্মবিরতি (ধর্মঘট) পালন করা হবে। এরপরও দাবি বাস্তবায়ন না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ডাক বিভাগের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের ডাকসেবা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপেক্ষিত হচ্ছে। তাই দ্রুত দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচিতে পলাশবাড়ী উপজেলার ২১টি শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার, বিলিকারী ও ডাক বহনকারীরা অংশ নেন। সভা শেষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

