স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
নড়াইল জেলা কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি লাইচ বেগম (৫০) অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত লাইচ বেগম লোহাগড়া উপজেলার চর-দিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লোহাগড়া উপজেলার চর-দিঘলিয়া গ্রামের মুসা খন্দকার নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আকমল খন্দকার বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম) আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার ওই মামলায় লাইচ বেগম, তার দেবর আকরাম মোল্যা ও জাফর খন্দকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
রায় ঘোষণার পর থেকেই লাইচ বেগম নড়াইল জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, শারীরিক নানা জটিলতায় তিনি গত মাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল।
রোববার বিকেলে কারাগারে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আলোক কুমার বাগচী তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম বলেন, “লাইচ বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

