সুব্রত সরকার,মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাগুরার শালিখা উপজেলার শিক্ষার্থীদের একটি উপবৃত্তির তালিকা ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, তালিকায় শুধু হিন্দু শিক্ষার্থীদের নাম রয়েছে এবং মুসলিম শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ দাবি বিভ্রান্তিকর।
যাচাই করে জানা যায়, ভাইরাল হওয়া তালিকাটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকা।
তালিকায় ‘বিশ্বাস’ ও ‘মণ্ডল’ পদবি থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শালিখা উপজেলায় ‘রাজবংশী’ ও ‘বাগদী’সহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ‘বিশ্বাস’ ও ‘মণ্ডল’ পদবি ব্যবহৃত হয়।
এ বিষয়ে শালিখার গঙ্গারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণব কুমার বিশ্বাস জানান, তার বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা আগে থেকেও একই প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা উপবৃত্তি পেয়ে আসছে।
ভাইরাল তালিকার ১৬ নম্বরে থাকা শিক্ষার্থী শিপন বিশ্বাসের বাবা বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, “আমরা বাগদী সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। আমাদের এলাকায় বিশ্বাস ও রায়—উভয় পদবিই ব্যবহার করা হয়।”
জানা গেছে, বাগদী সম্প্রদায় সরকারি গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক সায়মা আক্তারের স্বাক্ষরিত গত ১ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত দেশের অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন। কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও অসহায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি, বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়।
শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “ফেসবুকে যে তালিকাটি ছড়িয়েছে, সেটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়; এটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকা। ভাইরাল তালিকায় ৩২ জনের নাম দেখা গেলেও প্রকৃত তালিকায় মোট ৬৪ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। উপজেলার কোনো যোগ্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়া হয়নি।”

