আহমেদ সিফাত,কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুই বছর আগে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মোস্তফা কামাল (২৮) নামে এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত এক ঠিকাদার চার মাস কারাভোগ করেছিলেন।
পুলিশ জানায়, শেরপুরের বাসিন্দা মোস্তফা কামাল কুলিয়ারচরে তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি নিখোঁজ হন। পরে তার মা মনোয়ারা বেগম আদালতে অপহরণ, হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ এনে মামলা করেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাজিতপুরের ঠিকাদার জামান মিয়াকে। অভিযোগ ছিল, মোস্তফা কামালের সঙ্গে তার কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন ছিল। মামলার পর জামান মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি প্রায় চার মাস কারাভোগ করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ হলে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গত ৯ জুলাই দিবাগত রাতে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মোস্তফা কামালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন এবং নতুন করে সংসারও গড়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মোস্তফা কামালের আত্মগোপনের বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা জানতেন। তবে এ বিষয়ে তারা পুলিশকে কোনো তথ্য দেননি। এ দাবির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে, অভিযুক্ত ঠিকাদার জামান মিয়া বলেন, “কোনো অপরাধ না করেও আমাকে চার মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে, মোস্তফা কামাল ও তার পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

