ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের মধ্যবর্তী খালের ওপর একটি সংযোগ সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি, মাত্র ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরদরবেশ ও মুছাপুর আদর্শগ্রামের মধ্যবর্তী খালটি দুই এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। কিন্তু সেখানে কোনো সেতু না থাকায় বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো বা কর্দমাক্ত খাল পার হয়ে চলাচল করলেও বর্ষায় সেটিও সম্ভব হয় না। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মুছাপুরের ২৬ নম্বর আদর্শগ্রামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের চরদরবেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসায় যেতে হয়। কিন্তু সেতুর অভাবে বর্ষাকালে তাদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। অনেক অভিভাবক দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও ভয় পান।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। মুমূর্ষু রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে হলে কাঁধে বা খাটিয়ায় করে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে মূল সড়কে পৌঁছাতে হয়। এতে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
মুছাপুরের ৯০ বছর বয়সী বাসিন্দা নুর হোসেন বলেন, “একটি সেতুর জন্য আমরা বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছি। দ্রুত এখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক।”
শিক্ষার্থী নুর হোসেন জানায়, “জোয়ার এলে খাল পানিতে ভরে যায়। তখন আমরা মাদরাসায় যেতে পারি না। খুব কষ্ট হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন হেলাল বলেন, “মুছাপুর এলাকায় কোনো বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীরা চরদরবেশে পড়তে যায়। একটি সেতু না থাকায় তাদের প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
আদর্শগ্রাম দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার মুহতামিম আবু তৈয়ব বলেন, “সেতু না থাকায় বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এতে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে এবং পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।”
চরদরবেশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এই খালটি সোনাগাজী ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে দুই উপজেলার মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে। তাই দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত একটি সংযোগ সেতু নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা করছেন।

