সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অবশিষ্ট চাল ২৭টি এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নজির স্থাপন করেছেন কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান।
জানা গেছে, ভিজিডি, ভিজিএফসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণের সময় ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান নির্দেশ দেন, যার নামে কার্ড রয়েছে তাকেই সরাসরি উপস্থিত হয়ে চাল গ্রহণ করতে হবে। এ কারণে অনেক কার্ডধারী চাল নিতে না আসায় অবশিষ্ট চাল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তালিকা অনুযায়ী উপজেলার ২৭টি এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। সোমবার এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে চাল তুলে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, অতীতে অনেক বিত্তবান ব্যক্তি অন্যের মাধ্যমে সরকারি সহায়তার চাল সংগ্রহ করতেন। কিন্তু এবার ইউএনও নিজে উপস্থিত থেকে বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করায় অনেকেই চাল নিতে আসেননি। ফলে অবশিষ্ট চাল প্রকৃত উপকারভোগী—এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সহায়তা পেয়ে বেলতৈল কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম বজলুর রশিদ বলেন, “ইউএনও স্যার বিভিন্ন সময় আমাদের সহযোগিতা করেন। কখনো মাছ, কখনো দুম্বার মাংস, আবার কখনো চাল-ডাল দেন। এসব সহায়তা এতিম শিশুদের জন্য খুবই উপকারী।”
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৭টি এতিমখানা ও মাদ্রাসার এতিম এবং অসহায় শিশুদের জন্য এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই চরাঞ্চলে অবস্থিত। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চরাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

