শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ভূমি অফিসে চার মাসের মাথায় আবারও চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা অফিসের প্রধান ফটক ও দরজার তালা ভেঙে একটি কম্পিউটার চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গোয়ালন্দ পৌর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ফকির মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবসংলগ্ন উজানচর ভূমি অফিসে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাতের যেকোনো সময় এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পুলিশের পরিদর্শনকালে অফিসের সামনের প্রধান ফটকের বড় গেট, কেচি গেট, অফিস কক্ষ ও রেকর্ড রুমের তালাসহ মোট ছয়টি তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।
ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনছার আলী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিসে তালা দিয়ে তারা বাড়ি চলে যান। শনিবার দুপুর ১টার দিকে সরকারি কাজের জন্য অফিসে এসে দেখেন, প্রধান গেটের দুটি তালা, অফিস কক্ষের দরজার তালা এবং রেকর্ড রুমের সুরক্ষিত তালাসহ মোট ছয়টি তালা ভাঙা।
তিনি জানান, অজ্ঞাতনামা চোরচক্র অফিসে ঢুকে ওয়ালটন কোম্পানির একটি অল-ইন-ওয়ান কম্পিউটার নিয়ে গেছে। এছাড়া সিসিটিভির তিনটি ক্যামেরার ফোকাস অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একটি ক্যামেরা খুলে ফেলা হয়েছে। সিসিটিভির ডিভিআরের সব সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে অফিসের অন্য কোনো মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত বা চুরি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনার জন্য ডিভিআর মেশিন থানায় দেওয়া হয়েছে। ভূমি অফিসের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একই ভূমি অফিসে বারবার চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও চুরির ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয়দের কেউ কেউ ঘটনাটি পরিকল্পিত কোনো তৎপরতা কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল উজানচর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা অন্তত ১৫টি তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র তছনছ করেছিল। চার মাসের ব্যবধানে একই অফিসে ফের চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

