হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মাদক বিক্রির তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের ২ মিনিট ৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওটি কয়েকদিন আগের এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবককে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে কয়েকজন ব্যক্তি মারধর করছেন। এ সময় তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করতে দেখা যায়।
স্থানীয়ভাবে ভিডিওতে থাকা যুবকের পরিচয় জোয়ালেমিন (২৮) বলে জানা গেছে। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের মহেষকুড়া গ্রামের মঞ্জু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, হোসেনপুর উপজেলার হাজিপুর বাজারের মুরগি মহল এলাকায় আবুল মিয়া (২৫) নামের এক ব্যক্তি ওই যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। ভিডিওতে ‘জুনায়েদ তোর বাপ লাগে’—এমন কথাও শোনা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুনায়েদ নামের এক ব্যক্তির কাছে মাদক বিক্রির অভিযোগ বা তথ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে জোয়ালেমিনকে ধরে এনে মারধর করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ভিডিওটি ধারণকারী ব্যক্তি হিসেবে স্থানীয়ভাবে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের জিনারী গ্রামের বাঘের বাড়ির বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের নাম জানা গেছে। তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কয়েকদিন আগের। যাকে মারধর করা হচ্ছে, তিনি হোসেনপুর এলাকার বাসিন্দা নন। তাকে শনাক্ত করা গেলেও যারা মারধর করছেন, তাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের জানানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ওসি আরও বলেন, নূর হোসেন নামের যে ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, তার মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। চুরির পর ওই মোবাইল থেকেই ভিডিওটি বারবার ছড়ানো হচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—মাদকসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা কতটা আইনসঙ্গত। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

