ফরিদপুর প্রতিনিধি
বর্ষা এলেই নেমে আসে দুশ্চিন্তার ছায়া। পরিচ্ছন্ন পোশাকে বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বিদ্যালয়ের পথে বের হওয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হাঁটুসমান কাদা ও থকথকে পানি। পা পিছলে পড়ে বই-খাতা ভেজা কিংবা জামাকাপড় নষ্ট হওয়া—এমন ভোগান্তি নিয়েই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘ ২৯ বছরেও নির্মাণ হয়নি প্রায় এক কিলোমিটারের কাঁচা সড়ক।
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশের একমাত্র সড়কটির বর্তমান চিত্র এমনই। ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিত্যদিনের যাতায়াত চরম দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। ২০১১ সালে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয় আধুনিক দুইতলা ভবন। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮৪ জন শিক্ষার্থীকে ছয়জন শিক্ষক পাঠদান করছেন। তবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও প্রবেশের একমাত্র সড়কটি এখনো কাঁচাই রয়ে গেছে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বিশাল দাস ও পঞ্চম শ্রেণির জান্নাতি খাতুন জানায়, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় অনেক সহপাঠী নিয়মিত ক্লাসে আসতে পারে না। কখনো কাদায় পড়ে বই-খাতা ভিজে গেলে বাড়িতে ফিরে যেতে হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেমন্ত দাস বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। যারা ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে, তাদের অনেকের জামাকাপড় ভেজা থাকে। এতে তারা ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারে না।
প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার দাস বলেন, “বিদ্যালয়ে আসার জন্য ৮২০ ফুট রাস্তা কাঁচা রয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে রাস্তা ভেসে যায়। মেম্বার-চেয়ারম্যানদের অনেকবার বিষয়টি অবগত করার পরও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।”
স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সনৎ কুমার দাস জানান, ১৯৯৭ সালে ফুলেশ্বরী পানি উন্নয়ন সমবায় সমিতির মাধ্যমে খালের পাড় দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার করা হয়নি।
মেগচামী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সাবিদ উদ্দীন শেখ বলেন, বিষয়টি সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে।
মধুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বিথী জানান, বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও সড়কটির স্থায়ী সমাধান হয়নি। মাত্র ৮২০ ফুট সড়কের জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত সড়কটি পাকা করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হোক।

