পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড় জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড় জেলা সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) পঞ্চগড় জেলা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও বিভিন্ন স্তরের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।
সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, পিপি মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল এবং পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এর আগে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অংশীজনদের মতামত জানতে চান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় অংশীজনরা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। তারা প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ দ্রুত ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু করে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার দাবি জানান।
প্রধান অতিথি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, রোগীদের জন্য উন্নত ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দল-মত ও ধর্মের বিভেদ ভুলে জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম, সিন্ডিকেট বা গোপন আঁতাত বরদাশত করা হবে না। সবার জন্য সমান চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অতি দ্রুত নতুন হাসপাতাল ভবন চালু করার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, পঞ্চগড় জেলা সদর হাসপাতালে এখনো এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই। অথচ বিভিন্নভাবে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেন। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সভায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন স্তরের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা হাসপাতালের অবকাঠামো, জনবল, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও রোগীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

