নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পাঁচ বছরের শিশু মুসা আহম্মেদ রাফিকে অপহরণের পর হত্যা মামলায় মহির উদ্দিন ওরফে মহরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক আলমগীর আল মামুন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার একমাত্র আসামি মহির উদ্দিনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার নথি ও সাক্ষ্য সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈর পৌরসভার কালামপুর উত্তরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু মুসা আহম্মেদ রাফি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
পরে ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় কালামপুর এলাকার সোহাগপল্লীর উত্তর পাশে একটি সীমানাপ্রাচীরের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, শিশুটির গলায় তার ব্যবহৃত বেল্ট শক্ত করে বাঁধা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মো. শামীম মীর বাদী হয়ে ২৭ জুন ২০২৩ কালিয়াকৈর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি কালিয়াকৈর থানার মামলা নম্বর ২৪(৬)২০২৩ এবং জিআর মামলা নম্বর ১৩৮/২০২৩ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরে মামলাটি দায়রা মামলা নম্বর ৩৩১০/২০২৩ হিসেবে বিচারাধীন ছিল।
তদন্ত শেষে একমাত্র আসামি মহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আরিফুর রহমান এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট তমিজ উদ্দিন মামলা পরিচালনা করেন। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। পরে আদালত মহির উদ্দিন ওরফে মহরকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আইন অনুযায়ী উচ্চতর আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন। মামলার নথি, সিডি, সাক্ষীদের সাক্ষ্যের জাবেদা নকলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রায় তিন বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু মুসার পরিবারের সদস্যরা।

