এম ইসলাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরিনাথপুরে ‘ড্রাগন হাট’ বসিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত এ হাটে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন নামে টাকা ও ড্রাগন ফল নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাটে আসা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ড্রাগন ফলে ২ টাকা এবং ব্যাপারীদের কাছ থেকে ৩ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি চালানে ‘ধলতা’ হিসেবে অতিরিক্ত ৫ কেজি ড্রাগন ফল নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ঈসমাইল হোসেন, যুবদল নেতা সোহাগ সরকার, ফারুক হোসেন ও জামায়াত নেতা মসিউর রহমানসহ কয়েকজন এ টাকা ও পণ্য আদায়ের সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন বছর ধরে গৌরিনাথপুর সাধারণ হাটের পাশে আলাদাভাবে ড্রাগন ফলের হাট বসানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটে আসা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি কেজিতে বিভিন্ন হারে টাকা আদায় করে তা সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছেন।
গৌরিনাথপুর সাধারণ হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু অভিযোগ করে বলেন, গৌরিনাথপুর হাট সরকারি নিয়মে ইজারা দেওয়া হলেও ওই ড্রাগন হাটে ইজারা তুলতে দেওয়া হয় না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।
আব্দুস সামাদ নামের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, প্রতিদিন ওই হাট থেকে প্রায় ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ‘ধলতা’ হিসেবে অতিরিক্ত ৫ কেজি ফলও দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ও পরিবহন খরচের পাশাপাশি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া হাট পরিচালিত হলে প্রকাশ্যে কারা টাকা আদায় করছে এবং কোন ক্ষমতাবলে তা করা হচ্ছে। তারা দ্রুত হাটটির বৈধতা যাচাই এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ও অতিরিক্ত ফল নেওয়ার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা সোহাগ সরকার বলেন, “আমরা হাটে কোনো খাজনা করছি না। ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকে কমিশন নিচ্ছি।”
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “গৌরিনাথপুর ড্রাগন হাটটি আমার জানামতে অবৈধ। উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে হাটটির কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। হাটটি পরিদর্শন করে টাকা তোলা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটটির বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কথিত অবৈধ আদায় বন্ধ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

