Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুষ্টিয়ায় সার সংকটে বিপাকে আমন চাষিরা, বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৩:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় আমন ধান রোপণের ভরা মৌসুমে সার সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। প্রয়োজনের সময় সার না পেয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে তাদের। একই সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি (পটাশ) সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের দুর্বল নজরদারির সুযোগে এক শ্রেণির ডিলার ও ব্যবসায়ী সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। দিনের বেলায় ‘সার নেই’ বলে কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও রাতের আঁধারে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ২৭ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে। টিএসপি ২৭ টাকার পরিবর্তে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, ডিএপি ২১ টাকার পরিবর্তে প্রায় ৪০ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকার পরিবর্তে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকদের।

দৌলতপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী সাদিপুর এলাকার কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঠিকমতো সার পাচ্ছি না। দোকানে গেলে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকবার ঘোরার পর সার পেলেও পরিমাণ দেওয়া হচ্ছে কম, আবার দাম চাওয়া হচ্ছে বেশি। অনেক সময় সার দেওয়ার ভয়ে দোকান বন্ধ করে চলে যান ব্যবসায়ীরা। পরে রাতের আঁধারে তা বিক্রি করা হয়।”

একই এলাকার কৃষক তৌফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সার দেওয়ার পরও জমিতে আগের মতো কার্যকারিতা পাওয়া যাচ্ছে না। ১০ কেজি সারের জায়গায় ২০ কেজি দিলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, ইউরিয়া ২৭ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকার পরিবর্তে ৩০ থেকে ৩২ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে।

কৃষক আব্দুল গনি ও হেলাল জানান, সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরির পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেচ খরচও বেড়েছে। অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বৈদ্যুতিক মোটর ও মেশিন দুই দিকেই খরচ দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার আমন চাষের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে বাড়তি দামে সার কিনতে হলে লোকসানে পড়তে হবে বলে জানান তারা।

কৃষকদের আরও অভিযোগ, প্রতি বিঘা জমিতে আমনের চারা রোপণে শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এর সঙ্গে সার ও সেচের বাড়তি খরচ যোগ হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

তবে খুচরা সার বিক্রেতাদের দাবি, ডিলাররাই তাদের কাছে বেশি দামে সার সরবরাহ করছেন। তাদের ভাষ্য, পেঁয়াজ ওঠার পর থেকেই ডিলাররা সার সংকট দেখিয়ে প্রতি বস্তায় সরকারি মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে বাড়তি দামে সার সংগ্রহ করতে হওয়ায় তারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অন্যদিকে, বাড়তি দামে সার বিক্রি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলাররা। তাদের দাবি, তারা সীমিত লাভে সার বিক্রি করছেন। ডিলারদের তথ্যমতে, প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ২৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ২৫০ টাকা, ডিএপি ৯৫০ টাকা এবং এমওপি ৯০০ টাকা। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা পরিবহন খরচ দেওয়া হয়। এছাড়া খুচরা বিক্রেতারা অনেক সময় কৃষকদের বাকিতে সার দেন এবং ছয় মাস থেকে এক বছর পর টাকা আদায় করেন। এ কারণে তাদের কিছুটা বেশি দামে সার বিক্রি করতে হয় বলে দাবি ডিলারদের।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, উপজেলার চাহিদার তুলনায় অনেক সময় কম পরিমাণ সার বরাদ্দ আসে। ফলে ডিলারদের বাইরে থেকে সার সংগ্রহ করতে হয়। এতে বাড়তি খরচের কারণে কোথাও কোথাও সারের দাম বেড়ে যেতে পারে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে দৌলতপুর উপজেলায় আবাদ হচ্ছে প্রায় ১৯ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় ৮৮ হাজার ৯১৯ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৩ লাখ টন। চলতি মৌসুমে দৌলতপুর উপজেলায় ১ লাখ ৯ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সার সংকট ও বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, দৌলতপুরে ইউরিয়াসহ অন্যান্য সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সার সংকটের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক তাদের কাছে লিখিত বা সরাসরি অভিযোগ করেননি। তবে কৃষকরা যাতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পান, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে তদন্ত ও তদারকি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে দৌলতপুর উপজেলায় ২ হাজার ৯০০ জন প্রান্তিক কৃষককে আমন চাষের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কাছে সার সঠিক মূল্যে ও যথাযথ পরিমাণে সরবরাহ হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ নজরদারি করছে।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক ওয়াহিদুজ্জামান জানান, সারের দাম বেশি নেওয়ার কোনো তথ্য তাদের কাছে ছিল না। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত করা হবে। ডিলার ও সাব-ডিলাররা কোনো অনিয়ম করছেন কি না, তা যাচাই করা হবে।

কৃষকদের দাবি, আমন চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে দ্রুত বাজার তদারকি ও অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।