মো. হাসিবুল আলম,সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
টাঙ্গালের সখীপুরে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আনন্দে মিষ্টি বিতরণ না করে সেই অর্থ ক্যান্সার আক্রান্ত এক সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসায় দেওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। পরে অসুস্থ ওই নারীর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম জানান, ১৮ আগস্ট সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে ফোন করে কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থী নাঈম ইসলামের ক্যান্সার আক্রান্ত মা লাইলী বেগমের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
ইউএনও আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে লাইলী বেগমের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৫ সালে কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতন থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ২৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দে তারা মিষ্টি বিতরণ না করে মিষ্টি কেনার জন্য রাখা ২০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বাদলের হাতে তুলে দেন। পরে প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আরও ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। সব মিলিয়ে ৪০ হাজার টাকা নাঈম ইসলামের ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মা লাইলী বেগমের চিকিৎসার জন্য তাঁর দাদা আব্দুস ছাত্তার সিকদারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
গত ১৬ আগস্ট সকালে কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনে এ অর্থ হস্তান্তর করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লাইলী বেগম বর্তমানে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সখীপুর উপজেলার কালিদাস ঠকানিয়াপাড়া গ্রামের কাতারপ্রবাসী আব্দুল লতিফ সিকদারের স্ত্রী। গত ৪ আগস্ট তাঁর ব্লাড ক্যান্সার শনাক্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চিকিৎসায় সহায়তার উদ্যোগের খবর পেয়ে আনন্দিত শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে মায়ের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানো সহপাঠী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মায়ের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছে।
কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, “নাঈমের মায়ের চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় নাঈমের পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।”

