Nabadhara
ঢাকাবুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিতলমারীতে সবজির বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ চাষিরা

Link Copied!

শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 

বাগেরহাটের চিতলমারীতে চলতি মৌসুমে সবজির বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকরা এখন কীভাবে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

চাষিরা বলছেন, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর কম থাকায় লাভ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচই ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা সবজির ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ চিংড়ি ঘেরের পাড়ে লাউ, কুমড়া, করলা, শসাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হয়েছে। কৃষক-কৃষাণিরা কঠোর পরিশ্রম করে এসব সবজি উৎপাদন করছেন। চিতলমারীর উৎপাদিত সবজি প্রতিদিন পাইকারদের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সবজির দাম কমে যাওয়ায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে ঋণ করে চাষাবাদ করা কৃষকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। বাজারে সবজির দাম কমে যাওয়ার পেছনে মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো কারসাজি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সবজি চাষি সুব্রত মণ্ডল বলেন, “মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ভালো দাম পাওয়ার আশায় সবজি চাষ করেছি। এখন দেখছি উৎপাদন খরচের টাকাই ঘরে তোলা কঠিন। বর্তমানে প্রতি কেজি শসা ৮ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর করলা আগে যেখানে প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো, এখন তার দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় চাষিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

কৃষকদের দাবি, উৎপাদন মৌসুমে বাজারে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও উৎসাহ নিয়ে সবজি চাষ করতে পারবেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের লাউ, কুমড়া, করলা, শসাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করা হয়েছে। এ বছর সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চাষিদের চাষাবাদ বিষয়ে পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ফলনের কারণে অনেক সময় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যেতে পারে বলে জানান তিনি।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম তরফদার বলেন, উপজেলা পর্যায়ে তাদের বাজার মনিটরিংয়ের তেমন ব্যবস্থা নেই। তবে সবজির বাজারদর কমে যাওয়ার পেছনে কারও কারসাজি রয়েছে কি না—এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা বিবেচনায় নিয়ে দেখা হবে। ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য নির্ধারিত স্থান রয়েছে। কৃষকরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে পণ্য বিক্রি করতে পারেন।

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদনের সময় বাজারদর পড়ে গেলে চাষিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই কৃষকদের স্বার্থে বাজার মনিটরিং জোরদার করে উৎপাদিত সবজির ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।