ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে দীর্ঘদিনের দোকানঘরের বকেয়া ভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে দোকান মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১০ বছর ধরে বকেয়া ভাড়ার টাকা পরিশোধের দাবি জানানোর পর উল্টো মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মামলার নথি ও ঘর মালিক সূত্রে জানা যায়, শফিকুর রহমানের স্ত্রী শিউলী রহমান বাদী হয়ে ফরিদপুরের দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনকে নামীয় এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিদের অধিকাংশই সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক বলে জানা গেছে। মামলাটির সিআর নম্বর ৩০/২৬, তারিখ ২০ মে ২০২৬।
মামলার ৩ নম্বর আসামি ও ফরিদপুর সরকারি আধা-সরকারি মোটর চালক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মাসুদ আহমেদ লিটন বলেন, তাদের সমিতির কয়েকটি দোকানঘর রয়েছে। এর মধ্যে একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে শফিকুর রহমান ‘সমতা মেটাল’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। দীর্ঘদিনের ভাড়ার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে।
তিনি জানান, বকেয়া ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সমিতির সদস্যরা জেলা পরিষদ ফরিদপুরের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশের কাছে যান। বিষয়টি সমাধানের জন্য জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী দীপন কুমার ঘোষকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজনকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মাসুদ আহমেদ লিটনের দাবি, আলোচনায় শফিকুর রহমান বকেয়া টাকা দুই ধাপে পরিশোধ করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম ধাপে ১ লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে টাকা পরিশোধের আগেই মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়।
সমিতির সভাপতি আরও জানান, ‘ফরিদপুর সরকারি আধা-সরকারি মোটর চালক সমবায় সমিতি লিমিটেড’ একটি নিবন্ধিত সংগঠন। এর নিবন্ধন নম্বর ২৫৩, তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গাড়িচালকরা এ সমিতির সদস্য।
এদিকে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ফরিদপুর। পিবিআইয়ের স্মারক নম্বর ৩২৩৭, তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬-এর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪/৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৮০ ও ৩৪ ধারায় অপরাধ সংঘটনের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর মামলাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাদী শিউলী রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং মামলার আইনগত প্রক্রিয়ার দিকেই এখন সংশ্লিষ্টদের নজর।

