রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার টুটপাড়া এলাকায় মাসুদ শেখ নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চা-পাতি ও দেশীয়ভাবে তৈরি আরও কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে টুটপাড়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তেরখাদা উপজেলার দুলু শেখের ছেলে মাসুদ শেখ। ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তে নামে পুলিশ। পরে বিকেলে দারোগাপাড়া এলাকার মহিউদ্দিন সড়কে কেএম ইমতিয়াজ আলীর বাড়ির দোতলার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাড়াটিয়া খান কুব্বাত আলীর কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ডাইনিং রুমের একটি চেয়ার থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে আরও দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
অভিযানকালে ওই ঘর থেকে দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চা-পাতি এবং দেশীয়ভাবে তৈরি আরও কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় খান কুব্বাত আলী, তার স্ত্রী শামসুন নাহার ও ছেলে কেএম আবিদ হাসানকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর উৎস, মালিকানা এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলো বাসায় রাখা হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুলনা থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দারোগাপাড়ার ওই ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। প্রথমে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হলেও পরে তল্লাশি চালিয়ে আরও দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। এ ছাড়া বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সকালে মাসুদ শেখ গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে নামে। পরে বিকেলে ওই ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাসুদ শেখকে গুলি করার ঘটনায় কারা জড়িত এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো ওই ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

