জুলফিকার বাবলু, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের মাদারগঞ্জে চরপাকেরদহ পূর্বপাড়া এলাকার সেচ পাম্প থেকে রূপসী নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আল জিহাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পুলিশ সুপার ফারজানা ইয়ামিনের দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রূপসী হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামি আল জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে মেলান্দহ-ইসলামপুর সীমান্তবর্তী হারগিলা বাজার-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, রূপসীর সঙ্গে আল জিহাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে আল জিহাদ ২০২৪ সালে অন্যত্র বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তিনি এক সন্তানের জনক। বিষয়টি জানতে পেরে রূপসীর বাবা তার ব্যবহৃত সিমটি খুলে রাখেন। এতে দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ ছিল।
পরে রূপসী আবার ওই সিম ব্যবহার শুরু করলে আল জিহাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। এ সময় রূপসী একাধিকবার ফোন করে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং বিয়ে না করলে বাঁচবেন না বলে জানান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এএসপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা আরও জানান, রূপসীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সময় আল জিহাদ ‘রাকিব’ নামে একটি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। নিহত রূপসীর হাতেও ‘রাকিব’ নামটি লেখা ছিল বলে জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ আগস্ট আল জিহাদ রূপসীকে চরপাকেরদহ পূর্বপাড়ার ওই সেচ পাম্পের ঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর তার ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ সেখানে ফেলে রেখে চলে যান আল জিহাদ।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আল জিহাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর সোমবারই তাকে জামালপুর আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে বিজ্ঞ বিচারকের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আল জিহাদ।

