রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা খুলনায় সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্যোগ সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলির আলোকে বিভাগীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, খুলনা ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, জনগণকেও সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সম্ভাব্য দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, “দুর্যোগ কখনো বলে-কয়ে আসে না। তাই দুর্যোগের সময় মানুষের জানমাল রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।”
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের আগে জনগণকে সতর্ক করা, আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানানো এবং দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়ে সচেতন করতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি দুর্যোগের সময় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম, বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান রাসেলসহ বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সিপিপি, স্কাউটস, রোভার স্কাউটসহ বিভাগীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সভায় অংশ নেন।

