মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উদ্ধার করা সরকারি জমিতে উপজেলা প্রশাসনের অধীনে বহুতলবিশিষ্ট আধুনিক মার্কেট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, মার্কেট নির্মাণ করা হলে পৌরশহরের সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কেনাকাটা ও চলাচলে সুবিধা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০০ নম্বর দুর্গাপুর মৌজার ৫৩ নম্বর দাগে এক খতিয়ানভুক্ত মোট ১৮ দশমিক ৩৫৬ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ শতক জমি ১৯৮৩ সালে পাবলিক লাইব্রেরি ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে সরকার বন্দোবস্ত দেয়। অবশিষ্ট প্রায় ৭ শতক জমিতে পরবর্তী সময়ে দোকানপাটসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, একপর্যায়ে জমিটি পাবলিক লাইব্রেরির নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধার কারণে প্রতিষ্ঠানটি তা দখলে নিতে পারেনি। পরে ১৯৯৬ সালে কয়েকজন দোকান মালিক নামমাত্র ডিসিআর নিয়ে ওই জমির প্রায় সাত শতক দখলে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মহাসড়কসংলগ্ন অংশে দোকানপাট এবং পে্ছনের অংশে মুরগি ও মাংসের দোকান গড়ে ওঠে।
জনভোগান্তি কমাতে পৌর শহরের নাগরিকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ডিসিআর বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, উদ্ধার করা জমিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বহুতল মার্কেট নির্মাণ করা হলে এটি পৌরশহরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হতে পারে। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা কাজে আসা মানুষের মোটরসাইকেল ও হালকা যানবাহন রাখার পর্যাপ্ত নিরাপদ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা বর্তমানে নেই। তাই সম্ভাব্য মার্কেটের নিচে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং এবং ভবনে লিফটের ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ছাড়া মার্কেটের প্রতিটি তলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলে একই মার্কেট থেকে বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটার সুযোগ পাবেন ক্রেতারা বলেও মত স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ওই জমির একটি অংশ পুনরায় দখল করে পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর টিনশেডের দোকানঘর নির্মাণ করে অগ্রিম টাকা নিয়ে ভাড়া দেন। পরে ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ওই ঘরগুলো অন্য একটি পক্ষ দখলে নিয়ে ভাড়া দিতে শুরু করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “গত ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত হয়। তবে মানবিক কারণে ব্যবসায়ীদের মাছবাজারের দ্বিতীয় তলায় পুনর্বাসনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।”
উচ্ছেদ অভিযানের পর সরকারি জমি উদ্ধারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত উদ্ধার করা জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

