ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মা-বাবাকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে বেলাল মিয়া (৩০) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত বেলাল মিয়া উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের সরতাজ বহেড়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলাল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি প্রায়ই মা-বাবার সঙ্গে অশোভন আচরণ, মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর মা-বাবা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও করেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলাল মিয়া আবারও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মা-বাবার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে তারুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রানা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
পরে চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই পঙ্কজ চন্দ্র দে সরকার, এএসআই শামসুজ্জোহা ও তারুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে বেলাল মিয়াকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বেলাল মিয়াকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
তারুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রানা বলেন, বেলাল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার কারণে তিনি প্রায়ই মা-বাবার সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধর করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। মাদকের কারণে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, মাদকাসক্ত হয়ে মা-বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগে বেলাল মিয়াকে আটক করা হয়। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক সেবন ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান বলেন, মাদকাসক্ত হয়ে মা-বাবাকে নির্যাতনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহিংসতা বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

