মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
ঋণ ও ধারদেনা করে গড়ে তোলা কলাবাগানে ফলন আসতে শুরু করেছিল। আর কিছুদিন পর কলা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষক জয়দার শেখ। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলেছে তাঁর প্রায় এক হাজার কলাগাছ। এতে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি। শনিবার রাতে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা গ্রামে বাড়ির পূর্ব পাশে গোরস্থানসংলগ্ন প্রায় ১০০ শতক জমি লিজ ও বর্গা নিয়ে কলাবাগান গড়ে তোলেন জয়দার শেখ। এনজিওসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বাগানটির পরিচর্যা করছিলেন তিনি। বাগানের অনেক গাছে কলা ধরেছিল, আবার কিছু গাছে কলার কাঁদি আসতে শুরু করেছিল। এরই মধ্যে রাতের আঁধারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রায় এক হাজার কলাগাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
কৃষক জয়দার শেখ বলেন, “এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে বাগানটি করেছিলাম। আর কিছুদিন পর কলা বিক্রি করে ঋণ শোধ করার কথা ছিল। কিন্তু শত্রুতাবশত আমার সব শেষ করে দিয়েছে। এখন কিস্তি দেব কী দিয়ে, পরিবার নিয়ে খাব কী—বুঝতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।”
স্থানীয় এক কলাব্যবসায়ী জানান, তিনি এই বাগান থেকে কলা কিনে ঢাকায় পাঠাতেন। এ ব্যবসা থেকে অর্জিত লাভ দিয়েই তাঁর সংসার চলত। বাগানের কলাগাছ কেটে ফেলায় তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলম নবী বলেন, ঋণ করে বাগানটি গড়ে তুলেছিলেন জয়দার শেখ। ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলায় তাঁর প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস শামীম আহমেদ বলেন, কলাগাছ কাটার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

