নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা, উৎপাদন ব্যয় কমানো ও পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ওয়ালটন। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রতিদিনের বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ৯১ শতাংশই পূরণ হচ্ছে নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগকে দেশের অন্যান্য শিল্পকারখানার জন্য অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া।
সোমবার দুপুরে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক কারখানার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ও সোলার ইকোসিস্টেম ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ব্যবহার এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে। ওয়ালটন ইতোমধ্যে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কারখানা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি সম্ভবত দেশের প্রথম ৩২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় পুরোটাই নিজেরা পূরণ করছে, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। অন্যান্য শিল্পকারখানাও এভাবে এগিয়ে এলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে। গাজীপুরের অন্যান্য শিল্পপার্কেও ওয়ালটনের এ টেকসই সৌরবিদ্যুৎ মডেল অনুসরণ করা উচিত।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈরের ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ভবনের ছাদ, শ্রমিকদের চলাচলের পথের শেড এবং লেক ও পুকুরে ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করে জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০২২ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে কারখানার বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমানো হচ্ছে। এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে নতুন করে ১০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিয়মিত কারখানার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। চাহিদা কম থাকলে কিংবা সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটিতে কারখানা বন্ধ থাকলে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সংকট ও পরিবেশদূষণ মোকাবিলায় ওয়ালটনের এ উদ্যোগ শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিল্পকারখানাগুলো এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

