ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজীতে কলেজছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাঁর বাবার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রফিকুল ইসলাম কামাল (৪২) ও তাঁর ছেলে মো. সাহী (২০)। তাঁরা উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ, ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বখতারমুন্সি শেখ শহীদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী কলেজে যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে মো. সাহীর অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। বিষয়টি সাহীর পরিবারকে জানানো হলেও সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। লোকলজ্জা ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রথমে পরিবার আইনি পদক্ষেপ নেয়নি।
গত ২১ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে কলেজ ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে সৈয়দপুর গ্রামের মুন্সিবাড়ির দীঘির পাড়ে পৌঁছালে সাহী ওই ছাত্রীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে মুখ চেপে ধরে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনার পর ছাত্রীর পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চাইলে সাহী ও তাঁর বাবা কামাল ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ২২ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে ওই ছাত্রীটির বাবা নিজের জমিতে পানি সেচ দেওয়ার সময় সাহী ও কামাল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে তিনি আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
চিকিৎসা ও স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শের পর ছাত্রীর বাবা আমিনুল হক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ রফিকুল ইসলাম কামাল ও তাঁর ছেলে মো. সাহীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

