হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে একজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে ৩৩ জন এবং অক্টোবর মাসে ৩৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে অধিকাংশকেই সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশা নিধনে স্প্রে করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীর হাসান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে অসচেতনতা ও অবহেলার কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে কোনো ওষুধ, বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ারসহ বিভিন্ন পাত্রে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য বিভাগের একার দায়িত্ব নয়। এ জন্য প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

